ইসলামিক ওয়ালপেপার | সূরা আল-আসর ১০৩:১-৩ | Surah Al-Asr 103:1-3

ইসলামিক ওয়ালপেপার | সূরা আল-আসর ১০৩:১-৩ | Surah Al-Asr 103:1-3

আয়াত ও সূরা সম্পর্কে | সূরা আল-আসর ১০৩:১-৩

সূরার নাম ও নম্বর সূরা আল-আসর (১০৩)
সূরার ধরণ মাক্কী সূরা
আয়াত নম্বর ১-৩
রুকু সংখ্যা ১ টি
পারা বিস্তৃতি ৩০
মোট আয়াত সংখ্যা ৩ টি
وَٱلْعَصْرِ ١ إِنَّ ٱلْإِنسَـٰنَ لَفِى خُسْرٍ ٢ إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ وَتَوَاصَوْا۟ بِٱلْحَقِّ وَتَوَاصَوْا۟ بِٱلصَّبْرِ ٣
১। মহাকালের শপথ। [1] ২। মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত। [2] ৩। কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে[3] এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয়। [4] আর উপদেশ দেয় ধৈর্য ধারণের। [5]
By time, Indeed, mankind is in loss, Except for those who have believed and done righteous deeds and advised each other to truth and advised each other to patience.

সূরা আল-আসর এর ১-৩ নম্বর আয়াতের বিস্তারিত

[1] ‘মহাকাল’ বলতে দিবারাত্রির আবর্তন-বিবর্তনকে বুঝানো হয়েছে। রাত্রি উপনীত হলে অন্ধকার ছেয়ে যায়। আর দিন প্রকাশ পেতেই সমস্ত জিনিস উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এ ছাড়া রাত কখনো লম্বা আর দিন ছোট, আবার দিন কখনো লম্বা আর রাত ছোট হয়ে থাকে। এই দিবারাত্রি অতিবাহিত হওয়ার নামই হল কাল, যুগ বা সময়; যা আল্লাহর কুদরত (শক্তি) ও কারিগরি ক্ষমতা প্রমাণ করে। আর এ জন্যই তিনি কালের কসম খেয়েছেন। পূর্বেই বলা হয়েছে যে, আল্লাহ পাক নিজ সৃষ্টির যে কোন বস্তুর কসম খেতে পারেন। কিন্তু মানুষের জন্য আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারোর নামে কসম খাওয়া বৈধ নয়। 
[2] এটি হল কসমের জওয়াব। মানুষের ক্ষতি ও ধ্বংস সুস্পষ্ট। যেহেতু যতক্ষণ সে জীবিত থাকে ততক্ষণ তার দিনরাত মেহনত ও পরিশ্রমের সাথে অতিবাহিত হয়। অতঃপর সে যখন মৃত্যু বরণ করে তখনও তার আরাম ও শান্তি নসীব হয় না। বরং সে জাহান্নামের ইন্ধনে পরিণত হয়। 
[3] তবে ক্ষতি হতে সেই ব্যক্তিরা নিরাপত্তা লাভ করবে, যারা ঈমান এনে নেক আমল করবে। কেননা, তার পার্থিব জীবন যেমনভাবেই অতিবাহিত হোক না কেন, মৃত্যুর পর সে চিরস্থায়ী নিয়ামত এবং জান্নাতের চিরসুখ লাভ করে ধন্য হবে। পরবর্তীতে মু’মিনদের আরো কিছু গুণ বর্ণনা করা হয়েছে। [4] অর্থাৎ, তারা একে অপরকে আল্লাহ তাআলার শরীয়তের আনুগত্য করার এবং নিষিদ্ধ বস্তু এবং পাপাচার হতে দূরে থাকার উপদেশ দেয়। [5] অর্থাৎ, মসীবত ও দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য, শরীয়তের হুকুম-আহকাম ও ফরযসমূহ পালন করতে ধৈর্য, পাপাচার বর্জন করতে ধৈর্য, কামনা-বাসনা ও কুপ্রবৃত্তিকে দমন করতে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেয়। যদিও ধৈর্যধারণের উপদেশ সত্যের উপদেশেরই অন্তর্ভুক্ত, তবুও তা বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তাতে ধৈর্যধারণ ও তার উপদেশের মর্যাদা, মাহাত্ম্য এবং সুচরিত্রতায় তার পৃথক বৈশিষ্ট্য থাকার কথা সুস্পষ্ট হয়ে যায়। ~ তাফসীরে আহসানুল বায়ান

রেফারেন্স | সূরা আল-আসর ১০৩:১-৩

কোনো ভুল পেলে রিপোর্ট করুন!

ছবি ডাউনলোড (হাই কোয়ালিটি)